ইউরোপের আকাশে বোমাতঙ্ক! একসঙ্গে ৭ বিমান ও প্রমোদতরীতে হুমকি, জরুরি অবতরণ একাধিক উড়ানের
ইউরোপের একাধিক দেশের বিমান ও প্রমোদতরীতে বোমা হামলার হুমকি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিভিন্ন দেশে। ইটালি, বেলজিয়াম এবং বুলগেরিয়াগামী একাধিক বিমানে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত সাতটি বিমান এবং একটি প্রমোদতরীতে হুমকি ফোন ও ইমেল আসে বলে খবর। এর পরেই ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক বিমান চলাচল। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও বিমানেই বিস্ফোরক মেলেনি।এই ঘটনার জেরে ডাবলিন থেকে রোমগামী এয়ার লিঙ্গাসের একটি বিমানকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটি ফ্রান্সের এভরেক্স বিমানবন্দরে নামে। প্যারিস থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ওই বিমানবন্দরে বিমানটি নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে। আইরিশ বিমান সংস্থার তরফে এই খবর জানানো হয়েছে।অন্য দিকে, বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোল্যান্ডের বিমান সংস্থা এলওটির একটি বিমানকে ব্রাসেলসের জাভেনটেম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, হেলসিঙ্কি থেকে আসা ফিনএয়ারের একটি বিমানকে ইটালির বায়ুসেনা নিরাপত্তা দিয়ে রোম পর্যন্ত নিয়ে যায়। পরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।বুলগেরিয়াতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার প্রশাসন জানিয়েছে, বোমা হামলার হুমকির পর তিনটি বিমানকে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোপেনহেগেন এবং মাদ্রিদ থেকে আসা বিমান দুটি সোফিয়ায় অবতরণ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, লন্ডন থেকে আসা আরও একটি বিমানকে প্লোভদিভ বিমানবন্দরে নামানো হয়।তবে এই হুমকিগুলির পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও দেশই এখনও পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। এই ঘটনার সময় ইউরোপের একাধিক দেশ রাশিয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে গোপন হামলা ও অন্তর্ঘাতমূলক কাজকর্মে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলছে। যদিও মস্কো এবং তেহরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি সপ্তাহেই ইউরোপের কয়েকটি দেশের সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকারদের হামলায় একাধিক দোকানের রেফ্রিজারেটর অকেজো হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, বিমান ও প্রমোদতরীতে বোমা হামলার হুমকিও একই ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ঘটনার উদ্দেশ্য হতে পারে আতঙ্ক ছড়ানো এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা কঠিন করে তোলা।সব মিলিয়ে, একের পর এক বোমা হামলার হুমকিতে ইউরোপের বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার না হওয়ায় স্বস্তিতে প্রশাসন।

